সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

হাওরের মাঝ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ!

  • আপলোড সময় : ১৫-০৩-২০২৫ ১২:৫৪:১৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৩-২০২৫ ১২:৫৪:১৯ অপরাহ্ন
হাওরের মাঝ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ!
বিশেষ প্রতিনিধি :: বিগত কয়েক বছর ধরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের জোয়ালভাঙ্গা হাওরের মাঝ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ফসলরক্ষা বাঁধ। বাঁধটি নদীর পানির সাথে কোনো ধরনের স¤পৃক্ততা না থাকলেও প্রতি বছর এই অপ্রয়োজন বাঁধ নির্মাণে সরকারি টাকা অপচয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গ্রামীণ যাতায়াত ও হাওরের ফসল পরিবহন কিছুটা সুবিধা হলেও হাওরের বুকচিড়ে উঁচু বাঁধ নির্মাণ করায় বিপাকে পড়েন হাওরের উজান এলাকার কৃষকরা। অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েন হাওরের কয়েক গ্রামের কৃষক। এদিকে বাঁধটি যথার্থতা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যোগসাজশে প্রকল্পের অনুমোদন দিয়ে সরকারের টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কৃষকদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে মোরারবন্দ থেকে কাদাগাঁওয়ের মধ্যবর্তী জোয়ালভাঙ্গা হাওরের মাঝ দিয়ে কয়েক বছর ধরে বাঁধ নির্মাণ করে আসছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চলতি বছরে এই এলাকায় দুইটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। ৭ ও ৮ নং পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ দুইটিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুইটি পিআইসিতে মাটির কাজ শেষ হলেও চলমান রয়েছে ক¤েপকশন, দুরমুজ ও ড্রেসিংয়ের কাজ। তবে বাঁধ এলাকায় পিআইসির লোকজনকে দেখা যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাওরের মাঝ দিয়ে বাঁধ হওয়ায় উজান এলাকার রহমতপুর, রামনগর, ইনাতনগর, গাজীরদগা, টুকেরঘাট, গৌরারং, কান্দিগাঁও, পুরানগাঁওয়ের কৃষকরা বিপাকে পড়েন। বৃষ্টি হলেই হাওরে পানি জমা হয়। বাঁধের কারণে পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিগত বছরগুলোর জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন কৃষকরা। বাঁধের ফলে ভাটি এলাকার কৃষকদের কিছুটা সুবিধা হলেও জলাবদ্ধতা নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় থাকেন হাওরের বেশির ভাগ কৃষক। কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, প্রতিবছর এই বাঁধ কেন দেওয়া হয় আমরা বুঝিনা। বাঁধের কারণে হাওরে ডুবরা হয়। প্রত্যেক বছর ডুবরার লাগি বাঁধ কাটতে হয়। কৃষকরা বাঁধ কাটতে গেলে ভাটি এলাকার কৃষকদের সাথে সমস্যা বাঁধে। পানি নিষ্কাশনে ব্যবস্থা না রেখে বাঁধ নির্মাণ করায় এবারও সমস্যা হবে। বৃষ্টি হলে আমাদের ফসল ডুবে যাবে। এই বাঁধ উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জেলা কমিটির সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, হাওরের ফসল রক্ষার টাকা দিয়ে গ্রামের রাস্তা করার সুযোগ নেই। জোয়ালভাঙ্গা হাওরে যে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি অপ্রয়োজনীয়। বিগত কয়েক বছর ধরে এই অপ্রয়োজনীয় বাঁধ করে সরকারের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। আমরা প্রথম থেকে এর বিরুদ্ধে কথা বলেছি কিন্তু সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত করেননি। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, এই বাঁধ নতুন করা হচ্ছে না। এটি গত সময়েও হয়ে আসছে। বাঁধটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানান তিনি। বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা যাতে না হয় সেই জন্য বাঁধে পাইপ দেয়া আছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বাঁধটি অপ্রয়োজনীয় হলে পর্যালোচনা করে আগামীতে প্রকল্প অন্তর্ভুক্তি না করতে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স